তওবা কবুলের জন্য যে ৫টি কাজ করতে হবে

Bijoy Bd24

৮ দিন আগে সোমবার, জুন ২৪, ২০২৪


#

প্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ পাপ করে ফেলে। তবে পাপের পরে মানুষকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করে তোলে একনিষ্ঠ তওবা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন– ‘সেই মহান সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা পাপ না কর, আল্লাহ তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে (তোমাদের পরিবর্তে) এমন এক জাতি আনয়ন করবেন, যারা পাপ করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করবে।  আর আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। -(মুসলিম, ২৭৪৮)

খেয়াল রাখতে হবে যে পাঁচ বিষয়

শয়তানের ধোঁকা ও প্রবৃত্তির তাড়নায় পাপ করে ফেলার পর তওবা করা আবশ্যক। তবে তওবা কবুলের জন্য তা একনিষ্ঠচিত্তে করা উচিত এবং আগামীতে কখনও আর এমন পাপ করবো না এই মানসিকতা থাকাও জরুরি। আল্লাহ তায়ালার দরবারে তওবা কবুলের জন্য তওবা করার মুহুর্তে পাঁচটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। বিষয়গুলো হলো-১, খাঁটি অন্তরে তওবা করতে হবে। অর্থাৎ শুধু আল্লাহর আজাবের ভয় ও তার মহত্ত্বকে সামনে রেখে তওবা করতে হবে

২. অতীতের পাপের প্রতি অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে।

৩. তওবা করার সময় থেকেই শয়তানের ধোঁকায় পড়ে করে ফেলা পাপ থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪. ভবিষ্যতে কখনো আর এমন পাপ না করার জন্য মনে মনে দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।

৫. আল্লাহ তায়ালা বা বান্দার কোনও হক নষ্ট করে থাকলে তা সংশোধন ও  প্রতিকারে চেষ্টা করতে হবে।আল্লাহর হক  বা বান্দার হক থেকে মুক্তি

 
যেমন, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি আল্লাহর হক জাতীয় ইবাদত পালন না করে থাকলে তা আদায় করতে হবে। আর বান্দার হক অর্থাৎ, কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করে থাকলে বা নষ্ট করলে তার সম্পদ ও অর্থ ফেরত দিতে হবে। যার সম্পদ অন্যায়ভাবে দখল করা হয়েছে সে বেঁচে না থাকলে তার উত্তরাধিকারীর কাছে ফেরত দিতে হবে। আর ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে তাদের কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে।

অর্থ-সম্পদ ছাড়া অন্য কোনও হক নষ্ট করে থাকলে যেমন গীবত বা গালি-গালাজ করে থাকলে বা মুখে কিংবা কথায় কষ্ট দিয়ে থাকলে তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে। কোনও ধরনের ঝামেলার আশঙ্কা না থাকলে অন্যায়ের কথা উল্লেখ করে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। আর হকদার মারা গেলে তার উদ্দেশ্যে কিছু সদকা করে দিতে হবে।তওবা করার সময় এই পাঁচটি বিষয় খেয়াল না রেখে শুধু গতানুগতিকভাবে মুখে তওবা, ইস্তিগফার করলে এবং শুধু ইস্তিগফারের দোয়াগুলো পড়লে তওবা কবুল হবে না। তবে শুধু মুখে তওবার বাক্যগুলো পড়ারও অনেক উপকারিতা রয়েছে। -(আহকামুন নিসা, ২২১)

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied