শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক

Bijoy Bd24

১ দিন আগে শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৪


#

জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে কানাডা প্রবাসী আওয়ামী লীগের নেতারা।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন অন্টারিও আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ভিপি বাকসু ফয়জুল করিম, অন্টারিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন মাসুদ, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নওশের আলী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান আকন্দ, নির্বাহী সদস্য এস বি আব্দুল হামিদ, কানাডা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ জসিম উদ্দিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক কবিরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সুকোমল রায়, তাজুল ইসলাম, জাফর আহমেদ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. হুমায়ুন কবির, সহ-সভাপতি ড. এ এম তোহা ও কানাডা ছাত্রলীগের সভাপতি ওবায়দুর রহমান।

বক্তারা আলোচনায় বলেন, দীর্ঘ দুই যুগ ধরে চলমান মুক্তি সংগ্রামকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে রূপান্তর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার মাধ্যমে ১৯৭১ সালে বিশ্বের বুকে চূড়ান্তভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। এরপর সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের ঘরে ঘরে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেন তিনি। এছাড়া কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশের পাশাপাশি শিল্প-বিপ্লব, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাদানের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নতুন প্রজন্ম তৈরি, অর্থনৈতিকভাবে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী ছাড়া বাকি সবাইকে নিয়ে দেশগঠনে মন দেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু সেই কর্মযজ্ঞ অর্ধসমাপ্ত অবস্থাতেই মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অপশক্তির চক্র তাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে মাঝপথে থমকে দেয়। ফলে মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর উগ্রবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে স্বৈরাচারেরা। দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামের মূলমন্ত্র, বাংলাদেশের জাতীয় সংবিধানের মূলনীতি, বাঙালি জাতির হাজার বছরের সম্প্রীতির সংস্কৃতির চেতনার মূলে কুঠারাঘাত করে জামায়াতসহ স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দলগুলো। 

তারা বলেন, উগ্রবাদী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান কর্তৃক অবৈধভাবে বিএনপি গঠনের পরপরই দলটি মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় স্লোগানকে নিষিদ্ধ করে দেশে, পতাকার রঙ বদলে দেওয়ার অপচেষ্টা করে, ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বোকা বানায় দেশের সাধারণ জনগণকে, দেশে চালু করে ধর্মব্যবসা, জঙ্গিবাদ এবং সহিংসতার রাজনীতি। এ অপশক্তির সন্ত্রাস ও কালোবাজারির কাছে অসহায় হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। ধসে পড়ে দেশের অর্থনীতি ও পঙ্গু হয়ে যায় জাতীয় সংস্কৃতি। রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী। স্বৈরাচার ও উগ্রবাদীদের সীমাহীন সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট ও নির্যাতনে অস্থির হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষ। দ্বিমুখী ষড়যন্ত্রে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগ। এরকম পরিস্থিতিতে নিজের জীবনকে বিপন্ন করে বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই দলকে পুনর্জীবিত করতে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছুটতে শুরু করেন তিনি। শুরু হয় এক নতুন সংগ্রাম। 

তারা আরও বলেন, নব্বইয়ের দশকজুড়ে সারাদেশ সফর করে একদিকে আওয়ামী লীগকে তৃণমূল থেকে যেমন গুছিয়ে তোলেন, তেমনি দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেন শেখ হাসিনা। ফলে ছিন্নভিন্ন আওয়ামী লীগকে যখন আপত্য-মায়ায় মেখে আবারও গড়ে তুলছিলেন, ঠিক তখনই বাংলাদেশ পুনর্গঠনের প্রাথমিক পরিকল্পনাও সম্পন্ন হয়ে যায়। এরপর শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যতই গুছিয়ে উঠেছে, সন্ত্রাস-লুটেরা ও উগ্রবাদীদের কড়াল গ্রাস থেকে মুক্ত হয়ে ততোই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। এ কারণে বাংলাদেশ এবং আওয়ামী লীগের যাত্রাপথ অনেকটা এক ও অভিন্ন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু যেমন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে, তেমনি শেখ হাসিনাও আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনর্নির্মাণের পটভূমি রচনা করেন স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর। এ কারণে শেখ হাসিনার এ প্রত্যাবর্তন অনেকটা বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক।

তারা বলেন, বাংলাদেশের জন্য এ দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। উগ্রবাদী ও লুটপাটকারীদের থাবায় পিষ্ট ও বিধ্বস্ত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি আবারও নতুন জীবন পেয়ে নতুন উদ্যমে অগ্রযাত্রার পথে ধাবিত হয়েছে। শেখ হাসিনার দূরদর্শী, বিচক্ষণ ও মানবিক নেতৃত্বের কারণে আজ বাংলাদেশ পৃথিবীর রোল মডেল।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied